সবজিটির প্রতি কেজির মূ’ল্য এক লাখ ১৫ হাজার টাকা ভিতরে চলুন যেনে নেওয়া যাক এতো দামি সবজিটির রহস্য

বাঙালির মাছ-মাংসের পাশাপাশি শাক সবজিও অন্যতম প্রধান খাবারের মধ্যে একটি। তবে স্বাস্থ্যকর এই খাবার শখ করে অনেকেই খান না। খানিকটা বা’ধ্য হয়েই খান।

ছোটরা তো আছেই বড়রাও অনেকেই সবজি খেতে পছন্দ করেন না। এটি বেশ সহজলভ্য খাবার। তবে হপ শু,টস নামের এই সবজিটির প্রতি কেজির দাম শুনলে আপনার চক্ষু চড়কগাছ হতে বাকি থাকবে না।

বর্তমানে এর বাজার মূ’ল্য বাংলাদেশি টাকায় এক লাখ ১৫ হাজার টাকা।বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফলস হিসেবে পরিচিত ‘হপ-শুট’। পরীক্ষিতভাবেই ফলানো হচ্ছে ভারতে। নেপথ্যে বিহারের ঔরঙ্গাবাদ জে’লার করমডিহি গ্রামের কৃষক অম’রেশ সিং।

নিজের খামারে উৎপাদিত সবজি বিক্রি করছেন প্রতি কেজি এক লাখ রুপিতে। ২০১২ সালে হাজারীবাগের সেন্ট কলম্বাস কলেজ থেকে ইন্টারিমিডিয়েট পাস করার পর হপ-শুট চাষকেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন অম’রেশ। বলাই বাহুল্য, এক্ষেত্রে যথেষ্ট সফল তিনি।

হপ- হিউমুলাস লুপুলাস নামে পরিচিত- এটি একটি বহুবর্ষ,জীবী উদ্ভিদ। এটির বৈশিষ্ট্য জানার আগ পর্য,ন্ত উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের অধিবাসীদের কাছে এটি আগাছা হিসেবে পরিচিত ছিল হপ। হপ শুটসের ফুলকে বলা হয় ‘হপ কোনস’। এই ফুল বিয়ার প্রস্তুত করতে কাজে লাগে। আর বাকি অংশ সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

পারতপক্ষে এই গাছের ফুল, ফল, কাণ্ড, মূ’ল- সবটাই ব্যবহৃত হয় ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে। সাধারণ খাদ্য হিসাবে ব্যবহারের পাশাপাশি তা থেকে তৈরি হয় বিয়ার। অন্যদিকে এর নির্যাস থেকে বানানো হয় ক্যা’ন্সার, যক্ষ্মা, অনিদ্রা,

মা’নসিক বিভিন্ন রো’গের ও’ষুধ। যক্ষ্মা প্রতিরোধে প্রাকৃতিক একটি উপাদান হিসেবে কার্যকর হপ রুটস। এতে থাকা অ্যা,ন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ভালো রাখে। কখনো ত্বকের উজ্জ্ব,ল্য বজায় রাখতেও ইউরোপীয়রা ব্যবহার করেন এর রস। আর সে জন্যই দামের নিরিখে বাকি সকল সবজির তুলনায় আকাশছোঁয়া হপ-শুট।

একাদশ শতকে প্রথম আবি’ষ্কৃত হয়েছিল এই ফসল। তারপর ইউরোপের বেশ কিছু দেশেই জনপ্রিয়তা পায় হপ-শুটস। বর্তমানে রাশিয়া, জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স ইত্যাদি পশ্চিমের দেশগুলোতেই মূ’লত চাষ হয় এই ফসলের। তবে পিছিয়ে নেই ভারতও। বারাণসীর জাতীত উদ্ভিদ গবে’ষণা ইনস্টিটিউটে রীতিমতো গবে’ষণা চলছে এই ফসলের ফলন নিয়ে।

হিমাচলে এর চাষ আগে হলেও বাজারের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বিগত কয়েক বছর। তবে নতুন করে সেই পথ দেখাচ্ছেন বিহারের অম’রেশ সিং। আন্ত,র্জাতিক চা’হিদাকে কাজে লাগিয়ে যে বড়ো মাত্রায় এর ফলন সম্ভব, তারই প্রমাণ দিচ্ছেন অম’রেশ

বর্তমানে ভারতের নির্দি,ষ্ট একটা বাজারে হপ শুটস’পাওয়া যায়। তবে এর জন্যও অগ্রিম অর্ডার করতে হয়। অন,লাইনেও সবজি,টির অর্ডার নিয়ে তা পৌঁছে দেন অম’রেশ। তার জন্য ক্রেতাকে অ,পেক্ষায় থাকতে হয় দীর্ঘ সময়।ভারতে প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে দামি সবজি বলে পরিচিত হপ রুটস চাষে সফলতা পেয়েছেন বিহারের কৃষ,ক অরমেশ সিং।