কন্যা সন্তান হলে উপহার দেন যে পুলিশ বিস্তারিত ভিতরে

নিজের দায়িত্বা,ধীন এলাকায় কারো ঘরে কন্যা সন্তান হলে তিনি সেই পরিবারকে উপহার পৌঁছে দেন৷ বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের কাগমারী পু,লিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মোঃ মোশাররফ হোসেনের এমন একটি উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে ফেসবুকে৷

টাঙ্গাইলের কাগমারী পুলিশ ফাঁড়িতে টানানো একটি ব্যানার, তাতে লেখা, ‘‘কন্যা সন্তান বোঝা নয়, আশীর্বাদ৷ কন্যা সন্তান জন্ম হলে ফোন করুন, উপহার পৌছে যাবে সাথে সাথে৷’’ তার নীচে থানার ইনচার্জ মোঃ মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের মোবাইল নাম্বারটি দেয়া৷ কেন এমন উদ্যোগ নেয়ার কথা মনে হয়েছে তার?

‘‘মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল, চরাঞ্চলে মামলা তদন্ত করতে গেলে দেখি যাদের কন্যাসন্তান আছে, তাদের মন খারাপ৷ অনেকে কারণ জানতে চাইলে বলে যে, ‘স্যার আমার তিনটা মেয়ে, আমার পরিবারের বিষয়টিতে মন খারাপ৷’ সেকারণেই আমি চিন্তা করলাম ছোট একটা উপহার দিয়েও যদি তাদেরকে এই বার্তা দিতে পারি যে ,ছেলে হোক মেয়ে হোক সবাই সমান৷

মেয়েকে যদি ঠিকমতো পড়াশোনা করানো যায় তাহলে মেয়েও একসময় ছেলের চেয়ে কোনো অংশে কম হবে না৷ বরং ছেলের চেয়ে মেয়েরা বাবা-মাদের বৃদ্ধ বয়সে বা যেকোনো সময়ে বেশি মূল্যায়ন করে৷ সেকারণেই আমার ফাঁড়ি এলাকার কাগমারির জন্য এই উদ্যোগটা নিয়েছি৷’’ ডয়চে ভেলেকে ফোনে নিজের উদ্যোগটি সম্পর্কে এভাবেই জানান মোশাররফ৷

নবজাতকের অভিভাবকদের কেউ যোগাযোগ করলে তিনি বাড়ি গিয়ে তার উপহারের প্যাকেট ও একটি ক্রেস্ট পৌঁছে দেন৷ ক্রেস্টে থাকে বাবা-মা ও নবজাতকের জন্য শুভেচ্ছা বার্তা৷ এজন্য যে খরচ হয় সেটি নিজের বেতন থেকেই দিচ্ছেন বলে জানান তিনি৷ বলেন, উপহারটা হয়তো ছোট, কিন্তু কন্যা সন্তানের বাবা-মা যাতে গর্বিত ও সচেতন হন, সেটিই তার লক্ষ্য৷

কন্যা সন্তানের পরিবারে উপহার নিয়ে হাজির পুলিশ অফিসার মোঃ মোশাররফ হোসেন

মোশাররফ কয়েকদিন আগে তার এই উদ্যোগের কথাটি একটি ব্যানারে লিখে পুলিশ ফাঁড়ির দেয়ালে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন৷ পরে স্থানীয় একজন সাংবাদিকের চোখে পড়লে তিনি ছবি তুলে ফেসবুকে দেন৷ সেই ছবি দেখে উল্লেখিত মোবাইল নাম্বারে ফোন করেছিলেন মাসখানেক আগে কন্যাসন্তানের বাবা হওয়া ফারুক৷

বিস্তারিত জানার আধাঘণ্টার মধ্যেই তার বাড়িতে হাজির মোশাররফ৷ তাতে অনেকটা অবাক হয়েছেন ফারুক৷ ‘‘কন্যা সন্তান আশীর্বাদ সেটা জানার পরেও সবাই মনে করে ছেলে হলেই ভালো৷ তিনি যখন গিফট নিয়ে এসেছেন, তখন মনে হয়েছে সত্যিই আমার সন্তানও সৌভাগ্যাবান. আমিও সৌভাগ্যবান,’’ বলেন তিনি৷

দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন এমন অনেক কন্যাশিশুর বাবা-মায়ের ফোন পাচ্ছেন বলে জানান মোশাররফ৷ আবার নবজাতক নয় এমন শিশুর বাবা-মায়েরাও ফোন দিচ্ছেন তাকে৷

মোশাররফ বলেন, ‘‘সারাদেশে আমার পক্ষে উপহার পাঠানো আসলে সম্ভব না৷ আমি শুধু আমার ফাঁড়ি এলাকা কাগমারীর জন্য এই উদ্যোগটি নিয়েছি৷ ইচ্ছা থাকলেও এর বেশি তো দেয়ার সামর্থ্য আমার নেই৷’’

বুধবার পর্যন্ত দুইদিনে চারটি পরিবারকে মোশাররফ তার উপহার পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানান৷ নিজের সামর্থ্যের মধ্যে এমন কাজ তিনি অব্যাহত রাখতে চান৷