
মাদক কারবারি ও তার সহযোগিদের প্রাণনাশের হুমকিতে ছয় সদস্যের এক পরিবারের সবাই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে শহরে আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশে অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে দাবি ওই পরিবারের।
সোমবার বেলা ১১টায় নেত্রকোনা শহরের কুরপাড় এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মালা আক্তার লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী মালা আক্তার জেলার আটপাড়া উপজেলার জালালপুর গ্রামের মো. রতন মিয়ার স্ত্রী।
অভিযুক্ত মাদক কারবারি হলেন-একই এলাকার আসমা আক্তার। সম্পর্কে তার ঝা।
মালা আক্তার জানান, স্বামী-সন্তানসহ তাদের ছয় সদস্যের পরিবার দীর্ঘদিন কুমিল্লা শহরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। তাদের সঙ্গে বসবাস করতেন তার দেবরের স্ত্রী আসমা আক্তার। স্বামীর মৃত্যুর পর আসমা আক্তার কুমিল্লার এক মাদক কারবারিকে বিয়ে করে নিজেও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। নিয়মিত কুমিল্লা থেকে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক এনে নেত্রকোনার আটপাড়ার জালালপুর এলাকায় বিক্রি করতেন আসমা।
মালা আক্তার আরও জানান, গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে তার ছেলে রিয়াদ ও আসমা আক্তার একই বাসে করে কুমিল্লা থেকে নেত্রকোনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে কেন্দুয়া সড়কে ডিবি পুলিশের অভিযানে আসমা আক্তার বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেফতার হন। এরপর থেকেই তাদের ওপর নেমে আসে প্রতিশোধমূলক হুমকি।
মালার অভিযোগ- জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আসমা আক্তার কুমিল্লার মাদক কারবারি সহযোগীদের নিয়ে তাদের ওপর হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের সেখানে একটি বাসায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় এবং বাসা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
পরবর্তীতে প্রাণভয়ে তারা চাকরি ছেড়ে গ্রামের বাড়ি আটপাড়ায় আশ্রয় নিলেও সেখানেও হুমকি অব্যাহত থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে তারা আবার বাড়ি ছেড়ে বর্তমানে নেত্রকোনার লক্ষীগঞ্জ এলাকার আঁতকাপাড়া গ্রামে এক আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপনে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, এ ঘটনায় নেত্রকোণা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তারা চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মালা আক্তার বলেন,
আমরা গার্মেন্টসে কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালাতাম। এখন সব ছেড়ে পালিয়ে আছি। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে। আমাদের বাঁচার কোনো উপায় নেই। আমরা নিরাপত্তা চাই। তিনি অবিলম্বে অভিযুক্ত আসমা আক্তার ও তার সহযোগী মাদক কারবারিদের গ্রেফতার এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আসমা আক্তার বলেন, আমি কুমিল্লা থেকে ইয়াবা নিয়ে আসছি এটা তো ডিবি পুলিশের জানার কথা নয়। মামলার ছেলে আমার সাথে ছিল, সেই তথ্য দিয়ে আমাকে গ্রেফতার করিয়েছে। দেড়মাস পর জামিনে ছাড়া পেয়েছি। তবে তাদের কোন হুমকি বা ভয় দেখাইনি, কোন নির্যাতনও করিনি। এ নিয়ে এলাকায় সালিশ হবে সেখানেই সব জবাব দেব।
বিষয়টি অবহিত করলে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার বলেন, তাদের বাড়ি যেহেতু আটপাড়ায়, সেক্ষেত্রে কারো হুমকি থাকলে সেখানে অভিযোগ করবে। তবে আমার এখানে এমন কোন অভিযোগ দিয়েছে কিনা মনে করতে পারছি না। পরে মডেল থানায় মালা আক্তারের ছেলের করা অভিযোগের কপি তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি।
ছবি- সংবাদ সম্মেলনে মালা ও তার পরিবারের লোকজন।