ঐতিহ্যের ৩৩ নং ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়নের প্রত্যয়ে মাঠে মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু
চট্টগ্রাম মহানগরীর ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৩৩ নং ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডকে ঘিরে শুরু হয়েছে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে ইতোমধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এরই মধ্যে জনসম্পৃক্ততা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় রয়েছেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু।
ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফিরিঙ্গীবাজারের নামকরণের পেছনেও রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস। তৎকালীন চট্টগ্রামের শাসক ছিলেন গৌড়ের সুলতান হোসেন শাহ। ১৬শ শতকের প্রথম দিকে চট্টগ্রামে পর্তুগিজ ব্যবসায়ীদের আগমন ঘটে। পর্তুগিজরা এ অঞ্চলে “ফিরিঙ্গি” নামে পরিচিত ছিল। ১৫৩৭ সালে শের শাহের আক্রমণে ভীত হয়ে সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ সামরিক সহায়তার বিনিময়ে পর্তুগিজদের চট্টগ্রামে বাণিজ্য কুঠি ও বন্দরের শুল্ক আদায়ের অধিকার প্রদান করেন। পরবর্তীতে তারা দেয়াঙ্গ এলাকায় বাণিজ্যকেন্দ্র, গির্জা, শুল্ক সংগ্রহ কেন্দ্র ও পণ্যের আড়ত গড়ে তোলে। সেই সূত্র ধরেই এলাকাটি “ফিরিঙ্গি বাজার” নামে পরিচিতি লাভ করে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এই ওয়ার্ডের পূর্বে পাথরঘাটা, উত্তরে আন্দরকিল্লা, পশ্চিমে আলকরণ ও দক্ষিণে কর্ণফুলী নদী ও চর পাথরঘাটা ইউনিয়ন অবস্থিত। এলাকাটি নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ফলের আড়তের বাজারের জন্য ফিরিঙ্গীবাজারের সুনাম দেশব্যাপী ছড়িয়ে রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডের মোট জনসংখ্যা ২৬ হাজার ৬২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ হাজার ৩৩১ জন এবং নারী ১২ হাজার ২৮৯ জন। মোট পরিবার রয়েছে ৫ হাজার ৭৭৪টি। তবে স্থানীয়দের মতে, বাস্তবে এ ওয়ার্ডে প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু বলেন, “ফিরিঙ্গীবাজারের মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে আমি সবসময় সম্পৃক্ত ছিলাম। এলাকার প্রধান সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এছাড়াও মাদক, কিশোর গ্যাং এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেব।”
তিনি আরও বলেন, “৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গীবাজার এলাকায় এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই। আমি নির্বাচিত হলে এলাকাবাসীর জন্য একটি আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছি। অনেক সময় নিজে উপস্থিত থেকে ড্রেন পরিষ্কার ও সচল রাখার কার্যক্রম তদারকি করছি।”
এছাড়াও সামাজিক বিভিন্ন কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছি।
রাজনৈতিক জীবনের বিষয়ে মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু জানান, তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ-সম্পাদক ছিলেন।
তিনি বলেন, “রাজনীতি করতে গিয়ে বহুবার মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। তারপরও মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এলাকার মানুষের ভালোবাসাই আমার মূল শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, জনগণ উন্নয়ন ও সেবার রাজনীতিকে মূল্যায়ন করবে।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ, রমজান, পূজা-পার্বণ, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণের পাশাপাশি মাদক, কিশোর গ্যাং নির্মূলের চেষ্টার মাধ্যমে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনায় মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক ফিরিঙ্গীবাজার গড়ে তুলতে চাই। পরিকল্পিত সড়ক সংস্কার, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মাদকমুক্ত সমাজ ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে কাজ করব। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং নিয়মিত ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহ্য, জনঘনত্ব ও বাণিজ্যিক গুরুত্বের কারণে ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডের নির্বাচন সবসময়ই আলোচনায় থাকে। এবারের নির্বাচনেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনসংযোগের দিক থেকে মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু ইতোমধ্যে নিজেকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।