নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এক হোটেল ব্যবসায়ীকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান ওরফে সাহসসহ (৩০) তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার গভীর রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বুধবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া মেহেদী হাসান দুর্গাপুর পৌরসভার পশ্চিম মোক্তারপাড়া এলাকার মঞ্জুরুল হকের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং তার দাদা ইমাম হাসান জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি।
মেহেদী হাসানের যুবদলের পদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইউসুফ খান। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য দুজন হলেন বাগিচাপাড়া এলাকার হাসু মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (৩০) ও সাধুপাড়া এলাকার মো. মেহেদী (২৮)।
এলাকাবাসী জানালেন, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে থানায় হত্যাসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি তার সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার নাজিরপুর মোড়ে ‘ভাই ভাই অ্যান্ড জনতা হোটেলে’ বাকিতে খাবার খেতেন।
গত ৪ এপ্রিল রাতে খাবার খেতে এসে তিনি হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে উশৃঙ্খল আচরণ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা চলে যান। এর পরও ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা বাকিতে খাবার খেতে থাকেন।
পরে ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টার দিকে মেহেদী হাসান প্রায় ১৫ জন সহযোগী নিয়ে ওই হোটেলে এসে খাবার খান। খাওয়া শেষে হোটেল কর্তৃপক্ষ আগের বকেয়াসহ প্রায় এক লাখ টাকা বিল চাইলে মেহেদী হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং উল্টো দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এ নিয়ে মামলা বা পুলিশকে জানাতে নিষেধ করা হয়। ঘটনার পর ভয়ে হোটেলমালিক তিন দিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন। পরে দুর্গাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মেহেদী হাসানকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
‘খুন-জখমের ভয়ে আমি তিন দিন হোটেল বন্ধ রাখি। তার ভয়ে এলাকার মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকে’, যুবদল নেতা মেহেদীর ভয়ানক আচরণ তুলে ধরেন খোকন মিয়া।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লাহ বলেছেন, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে মেহেদী হাসান সাহসসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। (সুত্র আগামীর সময়)