নাসিরনগরে তালের শাঁসের ব্যবসা জমজমাট, সবার পছন্দের তালিকায় এই মৌসুমী ফল।
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় জমে উঠেছে গ্রাম বাংলার
ঐতিহ্যবাহী মৌসুমী ফল খোলা আকাশের নীচে বিভিন্ন ফুটপাতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে
তালের শাঁস বিক্রি হচ্ছে।
প্রত্যেকটি তালের শাঁসের দোকানে সব বয়সী ক্রেতাদের ভিড় থাকছে নিত্যদিন।
উপজেলা সদর সহ ইউনিয়ন পর্যায়ের হাটবাজারসহ গুরুতপূর্ণ জনবসতি স্থানে প্রতিদিন কাঁচা তাল নিয়ে বসছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি পিস তালের শাঁস (কাঁচা তাল) বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকায়।
সুস্বাদু এ ফলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক। জৈষ্ঠ্য ও আষাঢ় মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে হরেক রকমের সুস্বাদু ফল এ সময়ে গাছে ধরে। এ মাসে ভিন্নধর্মী একটি রসালো ফল যা অতি পরিচিত তালের শাঁস। তাল ফলের নরম অংশটি খুবই সুস্বাদু। গ্রাম্য ভাষায় এটি ‘তালকুর’ নামে বেশি পরিচিত। প্রচন্ড গরমে তালের এই শাঁস শহর ও গ্রাম সর্বত্রই মানুষের কাছে খুবই সুস্বাদু।

মিজান নামে একজন ক্রেতার সাথে কথা হয় তিনি বলেন, আগের মত তাল পাওয়া যায় না। আগে রাস্তার পাশে তালের রস নিয়ে বসত, সেটি এখন আর দেখা যায় না। এখন কাঁচা তালের শাঁস খাচ্ছি। কিছুদিন পর এটিও পাওয়া যাবে না। কারণ যেভাবে তালের গাছ কাটা হচ্ছে, তাতে তাল গাছ শূন্য হতে বেশি দিন সময় লাগবে না। আগে ৪০-৫০ টাকায় এক হালি (৪টি) তাল পাওয়া গেলে এখন লাগছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।
তালের শাস কিনতে আসা আব্দুর রহমান তাঁর বলেন, তাল একটি মৌসুমি ফল, এটি অনেক সুস্বাদু ও উপকারী। তাল গাছ কমে যাওয়ায় আগের থেকে এখন দাম বেশি। তালের স্বাদ ধরে রাখা ও গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষার জন্য সরকারিভাবে তাল গাছ রোপণের কর্মসূচি নেওয়া উচিৎ।
মৌসুমি ফল তালের শাঁস বিক্রেতা রফিক মিয়া বলেন, চার বছর ধরে তালের শাঁস বিক্রির ব্যবসা করছেন। আমাদের এলাকায় কাঁচা তাল তেমন পাওয়া যায় না, তাই দুর- দুরান্ত থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এজন্য দাম একটু বেশি। এ বছর ব্যবসা ভালো হলেও তালের দাম বেশি এবং তাল পাওয়া যাচ্ছে না।
এক যুগ ধরে তালের শাঁস আরেক বিক্রেতা বলেন, আগে এক ছড়া কাঁচা তালের দাম ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। এখন সেই ছড়া কিনতে হচ্ছে এক থেকে দেড় হাজার টাকায়। এ কারণে খুচরা বিক্রিতেও দাম বেড়ে গেছে।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমরান হোসাইন বলেন, “তালের শাঁস যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিকর। তালের রস দিয়ে গুড় ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি হয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত কারণে তালগাছ দিন দিন কমে যাচ্ছে।” তিনি জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বজ্রপাত সহনশীল গাছ হিসেবে তালগাছের চারা রোপণের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কৃষি বিভাগও মানুষকে বেশি বেশি তালগাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করছে। কৃষি বিভাগের মতে, গ্রামাঞ্চলে মানুষ তালগাছের গুরুত্ব না বুঝে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলছে। বছরে মাত্র একবার ফলন হওয়া এবং আর্থিক লাভ কম হওয়ায় অনেকেই তালগাছ সংরক্ষণে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তালগাছ শুধু ফলের জন্য নয়, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের নিরাপত্তার জন্য তালগাছ সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি।