নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার ১০ দিন পর গতকাল শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর বয়স ৩২ বছর। তিনি জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। প্রায় আট মাস আগে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর চার বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল তিনটার দিকে বাড়ির পাশে গেলে প্রতিবেশী মো. আউয়াল ওরফে রবিন (২৪) তাকে ইশারায় ডেকে নিয়ে যান। পরে স্থানীয় নয়ন মিয়ার একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই সময় ঘরের মালিক সপরিবারে ভালুকায় অবস্থান করছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় স্থানীয় এক নারী সেখানে উপস্থিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘর থেকে বের হয়ে চলে যান। পরে ওই নারী ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। ভুক্তভোগী বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে ঘটনার কথা জানান বলে পরিবারের দাবি।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত রবিন স্থানীয় খলিশাউড় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কামাল উদ্দিন তালুকদার ওরফে কামাল মেম্বারের ছেলে। ঘটনার পর প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে তারা তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেননি বলে দাবি পরিবারের। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে শুক্রবার রাতে তারা পুলিশের কাছে যান।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গতকাল শুক্রবার রাতে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। রাতেই ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশের নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে আজ শনিবার সকালে তার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নেত্রকোনা আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রবিন মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।