
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে অবৈধ কারখানায় জিংক পাউডার মজুদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াতের দুই নেতার মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অবৈধ জিংক পাউডার সংরক্ষণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কুতুব উদ্দিন শিবলী ও দলটির রোকন এবং মিডিয়া ইউনিট সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।
গত ২২ এপ্রিল দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, অবৈধ কারখানার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না করতে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। তিনি দাবি করেন, তাকে পৌরসদরের একটি রেস্টুরেন্টে ডেকে নিয়ে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
ভূঁইয়া আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একাধিক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করে আংশিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়। তার কাছে সম্পূর্ণ অডিও সংরক্ষিত আছে বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া ফেসবুক পোস্টটি মুছে ফেলতে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, কুতুব উদ্দিন শিবলী এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, দেলোয়ার ভূঁইয়া চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেয়ে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রশ্নে শিবলী জানান, বিষয়টি দলের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
পাল্টা বক্তব্যে দেলোয়ার ভূঁইয়া বলেন, যদি কুতুব উদ্দিন শিবলী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকেন, তবে তার নাম ব্যবহার করে কেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে—তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তিনি।
ঘটনাটি ঘিরে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নসহ পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন