'ত্রিরত্নে ডুবছে' বিসিক
নিম্নমানের কাজ, প্রকল্প শেষ না হতেই শতভাগ বিল প্রদান, তদন্তের নামে চোর-পুলিশ খেলা, এমনকি ঠিকাদারের কাছ থেকে জরিমানার অর্থ আদায় না হওয়ায় প্রশ্নের মুখে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক নির্মাণ প্রকল্প। আর এসব ঘটনার নেপথ্যে প্রতিষ্ঠানটির তিন শীর্ষ কর্মকর্তা প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক আব্দুল মতিন, সাবেক প্রকল্প পরিচালক জাফর বায়েজিদ ও বিসিক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের নাম বারবার উঠে আসছে।
খোদ প্রতিষ্ঠানটির একটি সূত্র বলছে, সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক নির্মাণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার পেছনে এই তিন শীর্ষ কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই 'ত্রিরত্নের কারণেই' বারবার খবরের শিরোনাম হচ্ছে বিসিক। একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তাদের ছত্রছায়ায় চলছে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা।
সূত্র জানায়, দুদক ও বিসিকের তদন্ত এখনো আলোর মুখ দেখেনি। অভিযোগ উঠেছে, 'ত্রিরত্নের নীরব ভূমিকায়' অনিয়মেে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ফলে প্রায় ৭১৯ কোটি টাকার এই বিসিক শিল্প পার্ক এখন পরিণত হয়েছে অনিয়ম আর দায়হীনতার প্রকল্প ।
সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক প্রকল্পে রাস্তা, ড্রেন ও অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যবহারের আগেই উঠে যাচ্ছে শত কোটি টাকার রাস্তার কার্পেটিং। কোথাও পাথরের বদলে নিম্নমানের খোয়া, কোথাও অর্ধাংশ ইট ব্যবহার করা হয়েছে। কার্পেটিংয়ের পুরুত্বও টেন্ডার শর্ত অনুযায়ী হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সূত্র বলছে, ফ্যাসিস্ট আমলের প্রভাবশালী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরাফাত কনস্ট্রাকশনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজের মান ঠিক না রেখেই শতভাগ বিল তুলে নেয়। এতে প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক আব্দুল মতিন ও তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক জাফর বায়েজিদের সরাসরি যোগসাজশ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এত কিছুর পরও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বিসিক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।
গেল বছরের ১৬ আগস্ট বিসিকের পরিচালক আব্দুল মতিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গেলেও রাস্তার কোনো মেজারমেন্ট নেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তিনি। বিসিকের ওই সূত্র জানায়, মূলত নিরাপত্তা জামানত ছাড়ের পথ তৈরি করতেই পরিদর্শন করা হয়।
এদিকে, ২০২০-২১ অর্থবছরে সময়মতো কাজ শেষ না করায় ড্রেন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান ও রাস্তা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স লিমিটেডকে প্রায় ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হলেও সেই অর্থ এখনো আদায় করতে পারেনি বিসিক। অন্যদিকে প্রকল্প শেষের দুই বছর পরও গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ নিশ্চিত হয়নি।
তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাইলে ব্যবসায়িক গোপনীয়তার অজুহাতে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান বিসিক শিল্প নগরীর ব্যবস্থাপক মাহবুবুল হক। যদিও গণমাধ্যমের অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এসেছে নিম্নমানের কাজ, বালু-খোয়া মিশ্রণে অনিয়ম এবং টেন্ডার শর্ত লঙ্ঘনের একাধিক তথ্য।
এসব বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক নিয়ে একাধিক অনিয়মের রিপোর্ট আমাদের হাতে এসেছে।