
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতনের মহোৎসব চলছে : ডাঃ ইরান
ঢাকা, ১৫ মে ২০২৬ : ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশে পরিকল্পিতভাবে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সংঘাত, সহিংসতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মদদে বিজেপির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নৃশংস হামলা, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, মসজিদ-মাদ্রাসায় ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছে।

শুক্রবার (১৫ মে) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির কার্যালয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল মতীন-এর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর লেবার পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডাঃ ইরান বলেন, পবিত্র কোরবানি ও মুসলিম সম্প্রদায়কে টার্গেট করে পশ্চিমবঙ্গে গরু-মহিষ জবাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলমানদের নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ভয়ভীতি, দমন-পীড়ন ও সাম্প্রদায়িক উসকানির মাধ্যমে কোণঠাসা করার অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে বিষয়টি তদন্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় ডাঃ ইরান আরও বলেন, মাওলানা আবদুল মতীন ছিলেন আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। শোষণ, জুলুম ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি “ওমর-ই সাম্যবাদ” নামে ইনসাফভিত্তিক রাজনৈতিক দর্শন প্রবর্তন করেন। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি স্মরণ করেন, মাওলানা আবদুল মতীন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন এবং মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী-র আস্থাভাজন সহচর হিসেবে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ঢাকা মহানগর লেবার পার্টির আহ্বায়ক এস এম ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, মহানগর সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ছাত্র মিশনের সভাপতি সৈয়দ মো. মিলন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুদ আলম পাটোয়ারী, মহানগর সদস্য মো. রাজু বেপারী ও পল্টন থানার সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মো. মিথুন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন