প্রতিবাদ কেন ধরবেন,পূর্বধলা ইউএনও'র বক্তব্যে তোলপাড়, এমপি বললেন 'মব সৃষ্টির আশঙ্কা।
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলামের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভিডিওতে বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তাকে বলতে শোনা যায়, “ধরবেন, ধরে ধরে আমাদের বলবেন।” এ বক্তব্যকে ঘিরে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা।
জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে পূর্বধলা উপজেলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের ভিডিও সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ইউএনও শফিকুল ইসলাম উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে খোশমেজাজে কথা বলছেন। একপর্যায়ে তিনি জানতে চান, “মিছিল করে কে?” জবাবে নেতারা বলেন, “ছাত্রলীগ, আমরা প্রতিবাদ মিছিল করেছি।
এরপর ইউএনও বলেন, “প্রতিবাদ মিছিল করেন কেন, ধরবেন। ধরে ধরে আমাদের বলবেন।”
জবাবে বিএনপির নেতারা বলেন, “আমরা তো ছয়জনকে ধরে দিয়েছি।” তখন ইউএনওকে বলতে শোনা যায়, “মিছিল করে, আপনাদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আছে না, তারা কি করে?
ভিডিওতে উপস্থিতদের মধ্যে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির, আনোয়ারুল হক আনার, সেলিম উদ্দিন, সাঈদ আল মামুন ফকির, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল হায়াত খান বাদশা, বিকাশ ঘোষ এবং জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আব্দুর রহিমসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে দেখা যায়।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ইউএনওর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন বক্তব্যকে নিরপেক্ষতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, এ ধরনের বক্তব্য আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে উৎসাহিত করতে পারে এবং ‘মব জাস্টিস’-এর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ওই দিন গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তার কার্যালয়ে এসেছিলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন মন্তব্য করেছেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, “গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রমের জন্য নেতাকর্মীরা আমার কার্যালয়ে এসেছিলেন। এ সময় কথায় কথায় এমনটা বলা হয়েছে। ইচ্ছে করে এমনটা বলা হয়নি। অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়তো এমন কথা চলে এসেছে। ওই সময় আরও অনেক কথা বলা হয়েছে। বক্তব্যের পুরোটা শুনলে বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যেত।”
ভিডিওতে শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের দেখা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সব দলের নেতাকর্মীদের নিয়েই চারা বিতরণ করা হয়েছে। তবে অন্য দলের নেতাকর্মীরা একটু পরে এসেছিলেন। তাই তাদেরকে ওই ভিডিওতে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা বলেন, “ভিডিওটি আমি দেখেছি। স্পষ্টভাবে সব কথা বোঝা যায়নি। যতটুকু বুঝেছি, তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের আইন হাতে তুলে নিতে বলতে পারেন না। তিনি প্রশাসন বা পুলিশকে বলতে পারেন। এভাবে মব সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিষয়টি নিয়ে আমি তার সঙ্গে কথা বলব।