
দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে নেত্রকোণার পূর্বধলা পৌরসভা। বুধবার পূর্বধলা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম।
সভায় ইউএনও বলেন, পূর্বধলা পৌরসভা পুনরায় চালুর বিষয়ে মতামত জানতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে চিঠি এসেছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর এ বক্তব্যের পর সভায় উপস্থিত সবাই হাততালির মাধ্যমে বিষয়টিকে স্বাগত জানান। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইতিবাচক মতামতের ভিত্তিতে দ্রুতই পৌরসভার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোহাম্মদ আলীর উদ্যোগে পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের আটটি এবং আগিয়া ইউনিয়নের দুটি মৌজা নিয়ে পূর্বধলা পৌরসভা গঠিত হয়। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরাতন কোর্ট ভবনে শুরু হয়। তৎকালীন পৌর প্রশাসক হিসেবে বিএনপি নেতা মুশতাক আহমদ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে পৌরসভার অর্থায়নে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন নির্মাণসহ নাগরিক বিভিন্ন সেবা চালু হয় এবং পৌরবাসী এর সুফল ভোগ করতে শুরু করেন।
তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পূর্বধলা পৌরসভা বাতিল করা হয়। এরপর থেকে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পৌরসভা পুনর্বহালের দাবি নতুন করে জোরালো হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা বিষয়টি একাধিকবার জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় মতামত জানতে প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
পূর্বধলা সদরের রওশনারা রোড এলাকার বাসিন্দা মাওলানা শহিদুল ইসলাম বলেন, পৌরসভা বাতিল হওয়ার পর থেকে পৌরবাসী নানা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থারও অবনতি হয়েছে। তিনি দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়ে পৌরসভা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার আনার বলেন, পূর্বধলা পৌরসভা ছিল এলাকার মানুষের আবেগ ও উন্নয়নের প্রতীক। এটি পুনরায় চালু হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা বলেন, পূর্বধলা পৌরসভা পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে একাধিকবার জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এরই অংশ হিসেবে স্থানীয়দের মতামত জানতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খুব দ্রুতই পূর্বধলা পৌরসভার কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে। (সুত্র আরবান)
মন্তব্য করুন