
জাল সনদে চাকরি ফেসে যাচ্ছেন পুর্বধলার দুই শিক্ষকজাল সনদে চাকরির অভিযোগে পূর্বধলায় দুই শিক্ষককে কারন দর্শানোর নোটিশ
জাল সনদ ব্যবহার করে শিক্ষকতায় যোগদানের অভিযোগে নেত্রকোনার পূর্বধলায় দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনার পর এ উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের দীর্ঘ তদন্তে সারা দেশে শনাক্ত ৪০২ জন জাল সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীর তালিকায় পূর্বধলার এই দুই শিক্ষকের নাম উঠে আসে।
অভিযুক্তরা হলেন ঘাগড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) মো. জায়েজুল ইসলাম এবং ভূগী জাউয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) মো. বিল্লাল হোসেন।
মাউশির জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১-এর ১৮.১(ঙ) ধারা অনুযায়ী জাল সনদ ব্যবহার গুরুতর অপরাধ। এ অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের কেন চাকরিচ্যুত করা হবে না এবং কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ডিআইএ সুপারিশ করেছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দুই শিক্ষকের এমপিও সুবিধা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলিত বেতন-ভাতাও ফেরত নেওয়া হবে। এ দুই শিক্ষকের কাছ থেকে মোট ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৫১০ টাকা আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ নির্দেশনার পর নেত্রকোনা জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, জেলা শিক্ষা কার্যালয় থেকে গত ৬ মে এসংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৭ মে সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ উল্লেখ করেন, অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এরই মধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. জায়েজুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি যথাযথ নিয়মে নিয়োগ পেয়েছেন এবং পরে যাচাই-বাছাই শেষে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। এর আগেও এ বিষয়ে জবাব দেওয়া হয়েছিল, এবারও তিনি লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন। তার আশা, বিষয়টির সুরাহা হবে।
মো. বিল্লাল হোসেন জানান, শিক্ষা অফিসের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তিনিও লিখিত জবাব দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মাউশি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মন্তব্য করুন