১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। লাখো জনতার এই সম্মেলনে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি পান শেখ মুজিব। আর এই উপাধি ঘোষণা দিয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ। এর একদিন আগেই আগরতলা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে মুক্তি লাভ করেন শেখ মুজিবসহ অভিযুক্তরা।
১৯৬৮-৬৯ মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। পরবর্তীতে যিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় শেখ মুজিবের রাজনৈতিক সচিব, সংসদ সদস্য ও দীর্ঘ সময় মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। আজ সোমবার বিকেলে ৮২ বছরের ঘটনাবহুল জীবন থামল তার।
সেই জনসমাবেশ নিয়ে বিভিন্ন সময় নিজের স্মৃতি তুলে ধরেছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তার ভাষ্য ছিল, ‘সেদিনের রেসকোর্স ময়দান যারা দেখেননি তাদের বলে বোঝানো যাবে না সেই জনসমাবেশের কথা। আমরা যখন সেখানে পৌঁছেছি তখন রেসকোর্স ময়দান ভরে গেছে।’
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা আবদুর রউফ, খালেদ মোহাম্মদ আলী, শামসুদ্দোহা, সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক, জামাল হায়দর, মাহবুবউল্লাহ, ফকরুল ইসলাম মুন্সি, ইব্রাহিম খলিল, নাজিম কামরান চৌধুরীর কথাও স্মরণ করেছিলেন তিনি।
‘২৩ ফেব্রুয়ারি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়ার দিন। একটা ছাত্রের জীবনে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে?’। সেই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছিলেন তোফায়েল আহমেদ। কিন্তু শেখ মুজিবের ভাষণের আগে তাকে কথা বলতে হয়।
তিনি জানান, ছাত্র নেতৃবৃন্দ আগেই একটি উপাধিতে ভূষিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল। ‘বঙ্গবন্ধু’ নামে একটি কবিতার কথা স্মরণ করেন এই রাজনীতিবিদ, যেই উপাধি তাদের ভালো লেগেছিল।(সুত্র-আগামীর সময়)