
সীতাকুণ্ডে বিপুল আবাদযোগ্য জমি অনাবাদি: প্রভিটা ফিড লিমিটেডের বিরুদ্ধে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করার অভিযোগ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা-এর বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রভিটা ফিড লিমিটেডের মালিক আলহাজ্ব নুরুন্নবী ভূইয়ার মালিকানাধীন প্রায় ১শ একর আবাদযোগ্য কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদি পড়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, জমিগুলো নিজে চাষাবাদ না করা কিংবা বর্গা ভিত্তিতে কৃষকদের কাছে হস্তান্তর না করায় বছরের পর বছর পতিত অবস্থায় রয়েছে, যা স্থানীয় কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সীতাকুণ্ডের উর্বর মাটি ধান, শাকসবজি, ডাল, ভুট্টাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। যথাযথ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব হলেও বর্তমানে বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি থাকায় সেই সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে। কৃষকদের ভাষ্য, “এক একর জমি সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে বছরে কয়েক দফা ফসল ফলানো সম্ভব, সেখানে এত বড় আয়তনের জমি ফেলে রাখা মানে উৎপাদনের বিশাল ক্ষতি।”
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও মাঠপর্যায়ে এ ধরনের অনাবাদি জমি সেই প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে প্রতিটি আবাদযোগ্য জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ১শ একর জমিতে ধান বা অন্যান্য ফসল উৎপাদন হলে তা স্থানীয় বাজারে খাদ্য সরবরাহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। পাশাপাশি সবজি ও উচ্চমূল্যের ফসল চাষের মাধ্যমে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতেন এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হতো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক কৃষক জমি বর্গা বা লিজ নিয়ে চাষ করতে আগ্রহী হলেও তারা সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। এতে করে কৃষকদের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের সুযোগ হারাচ্ছেন এবং অনেকেই কৃষি পেশা থেকে সরে যাচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদে এটি কৃষি খাতের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সচেতন মহল আরও বলছে, দীর্ঘদিন জমি পতিত থাকলে মাটির উর্বরতা কমে যায়, আগাছা জন্মে এবং জমি পুনরায় চাষযোগ্য করতে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় প্রয়োজন হয়। ফলে এটি কেবল বর্তমান উৎপাদনের ক্ষতিই নয়, ভবিষ্যৎ কৃষি সম্ভাবনার জন্যও একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
এছাড়া কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, পরিবহন, বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতেও এর প্রভাব পড়ছে। এত বড় আয়তনের জমিতে নিয়মিত চাষাবাদ হলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারত, যা বর্তমানে বন্ধ হয়ে আছে।
এ বিষয়ে প্রভিটা ফিড লিমিটেড বা মালিক আলহাজ্ব নুরুন্নবী ভূইয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, জমিগুলো চাষের আওতায় আনা বা কৃষকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে অনাবাদি জমি চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সীতাকুণ্ডের মতো সম্ভাবনাময় এলাকায় এত বড় পরিমাণ আবাদযোগ্য জমি পতিত থাকা জাতীয় কৃষি ব্যবস্থার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
মন্তব্য করুন