
সীতাকুণ্ডে অনুমোদনহীন জিঙ্ক পাউডার মজুদ—বিস্ফোরণের আশঙ্কায় আতঙ্কে জনপদ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কদম রসুল এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে বিপজ্জনক জিঙ্ক পাউডার মজুদের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় জনপদ, পরিবেশ ও জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
সরেজমিনে দেখা যায়, কদম রসুল এলাকার পূর্ব পাশে একটি পরিত্যক্ত এমটিএস রোলিং মিলের ভেতরে খোলা অবস্থায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ দাহ্য জিঙ্ক পাউডার। কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বা নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণ ছাড়াই এসব ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক রাখা হচ্ছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও শিল্প নিরাপত্তা বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে যেকোনো সময় অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিঙ্ক পাউডার অত্যন্ত দাহ্য ও প্রতিক্রিয়াশীল পদার্থ। সামান্য তাপ, আর্দ্রতা বা অন্য রাসায়নিকের সংস্পর্শেই এটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এছাড়া এর সূক্ষ্ম ধূলিকণা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি পরিবেশ দূষণেরও বড় উৎস।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রায়হান লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও দাবি করেন, জাহাজ ভাঙা শিল্প থেকে প্রাপ্ত উপকরণ হওয়ায় আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ উপকরণ সংরক্ষণ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক।
উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অবহিত করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে সাংবাদিকদের ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর একটি অনলাইন ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে প্রতিবেদক ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ঘটনাটি শুধু পরিবেশ ও জননিরাপত্তার ঝুঁকিই নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ জিঙ্ক পাউডার মজুদ বন্ধ করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং পুরো এলাকাকে সম্ভাব্য বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা হোক।
পরিবেশ সুরক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন