
পূর্বধলায় আবদুল মান্নান আলালের ‘ভাটি বাংলার বাউল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
নেত্রকোনার পূর্বধলায় লেখক ও সেনাবাহিনীর সাবেক ল্যান্স কর্পোরাল আবদুল মান্নান আলালের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘ভাটি বাংলার বাউল’ (প্রথম খণ্ড)-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে জ্ঞান ও সাহিত্য প্রসারে নিয়োজিত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘বর্ণবীজ প্রকাশনী’র আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সুধাংশু শেখর তালুকদার। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরে আলম সিদ্দিকী মামুনের সভাপতিত্বে এবং মৌদাম সেসিপ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম মণ্ডল।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন লেখক ও কলামিস্ট জাকির আহমদ খান কামাল, দেওটুকোন আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিউটন চন্দ্র সরকার, পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জায়েজুল ইসলাম, সাংবাদিক এমদাদুল ইসলাম, দীপক রঞ্জন সরকার, রাবেয়া আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও লেখক সুদীপ্ত কুমার সিনহা, বিশকাকুনী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শহিদুল আলম মামুন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাজু আহমেদ, আলতাব হোসেন, লেখকের ছোট ভাই আবু তাহের, ছেলে সাব্বির আহমেদ সেতু, ‘বর্ণবীজ প্রকাশনী’র পক্ষে বক্তব্য দেন সারোয়ার হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নোমান শাহরিয়ার, হোগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হীরা মিয়া, ধলামূলগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. একলাছ মিয়া, ঘাগড়া দিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালক মো. আব্দুল মোতালিব, কালডোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফসারী বেগম পান্না, কবি খোরশেদ আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্য অনুরাগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা গ্রন্থটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, ভাটি বাংলার বাউলদের জীবন, সাধনা, দর্শন ও প্রাচীন ঐতিহ্য নিয়ে রচিত ‘ভাটি বাংলার বাউল’ গ্রন্থটি সাহিত্য ও গবেষণার জগতে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এ ধরনের গবেষণাধর্মী উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে ভাটি অঞ্চলের সমৃদ্ধ বাউল সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা আরও বলেন, বই মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়, চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করে এবং অন্তরে আলোর প্রদীপ জ্বালায়। বাউল সাধকদের জীবন ও দর্শন নিয়ে লেখক আবদুল মান্নান আলালের দীর্ঘদিনের গবেষণা প্রশংসার দাবিদার।

লেখকের জীবন ও কর্ম: লেখক মো. আবদুল মান্নান আলাল ১৯৬২ সালের ৪ আগস্ট নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার খলিশাউর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৩ সালে এসএসসি পাস করার পর তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরে যোগ দেন। ২০০৩ সালে ল্যান্স কর্পোরাল পদে অবসর গ্রহণের পর থেকে তিনি এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন।
দুস্থ ও অসহায় মানুষকে বিনা মূল্যে ও স্বল্প মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ায় স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি লেখালেখির প্রতিও তাঁর গভীর অনুরাগ রয়েছে। ছড়া, কবিতা, চুটকি ও আঞ্চলিক শব্দ সংগ্রহের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাউল সাধকদের জীবন ও দর্শন নিয়ে গবেষণা করেছেন। সেই গবেষণার ফসল তাঁর ‘ভাটি বাংলার বাউল’ (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থটি।
উল্লেখ্য, লেখক আবদুল মান্নান আলাল বেশ কয়েক মাস ধরে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ভারতের কলকাতায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা তার দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করেন, যাতে তিনি সুস্থ হয়ে আবারও লেখনী ও চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে পারেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনীতে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘বর্ণবীজ প্রকাশনী’র পক্ষ থেকে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি বই পড়ার চর্চা বাড়ানো এবং ‘বই হোক বন্ধু’- এই বার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পরে লেখক আবদুল মান্নান আলালের দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন